Jun 16, 2024
National News

Medicine in Grocery Shop : ওষুধের দোকান ছাড়াও মুদির দোকান বা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ওষুধ বিক্রি, কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফার্মাসিস্টরা

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

ওভার-দ্য-কাউন্টার বা ওটিসি ওষুধে প্রেসক্রিপশন লাগে না। কিন্তু সেই তালিকা লম্বা করাই শুধু নয়, সেই সব ওষুধগুলি এবার ওষুধের দোকান ছাড়াও অন্যান্য মুদির দোকান বা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে যাতে পাওয়া যায়, সে ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও ইতিমধ্যেই সেই নীতি রূপায়নের রূপরেখা তৈরি করতে আট সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করেছে কেন্দ্র।

তারই প্রতিবাদে এবার সোচ্চার হয়েছে অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টের অধীন এ রাজ্যের বেঙ্গল কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিসিডিএ)। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে একটি সাংবাদিক বৈঠক আয়োজন করে বিসিডিএ। সেখানে সংগঠনের সভাপতি শঙ্খ রায়চৌধুরী বলেন, 'কেন্দ্রীয় সরকার যাতে অদূর ভবিষ্যতে খসড়া গাইডলাইন প্রকাশ করতে না পারে, সে জন্য আমরা এখনই দৃঢ় ভাবে এর বিরোধিতা করছি। বিনা ফার্মেসি লাইসেন্সে ওষুধ বিক্রি করা যায় না।' তাঁর প্রশ্ন, 'এখন যে হাজার হাজার ফার্মাসিস্ট রয়েছেন, তাঁদেরই বা ভবিষ্যত কী? মুদির দোকানি, পানের দোকানি কিংবা ডিপার্টেমেন্টাল স্টোরের কর্মীরা কি কোন ওষুধ কখন কী ভাবে খেতে হবে, সে সব বুঝিয়ে বলতে পারবেন রোগীকে?'

কোন কোন ওষুধের বিক্রিতে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে জেনারেল স্টোরে? বিসিডিএ কর্তারা জানাচ্ছেন, শিডিউল-কে'র অধীন ওটিসি ওষুধের তালিকা লম্বা করে দেওয়া হচ্ছে অনুমোদন। এই শিডিউলের অধীনে মাউথওয়াশ, অ্যান্টিসেপটিক লোশন ও ক্রিম, অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম, অ্যান্টি-অ্যালার্জিক, কাশির লজেন্স, কোষ্ঠকাঠিন্যের সিরাপ, গর্ভনিরোধক বড়ি, প্যারাসিটামল, নেজ়াল স্প্রে ইত্যাদির মতো ৬০ ধরনের ওষুধ ছিল আগে।কিন্তু এই সব ওষুধ সেই সব দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাতেই বিক্রয়যোগ্য যেখানকার জনসংখ্যা হাজারেরও কম। কিন্তু সেই নিয়মকে গ্রাহ্যের মধ্যে না এনে এখন শিডিউল-কে'র অধীনে প্রায় ৪০০ রকমের ওটিসি ওষুধ ঢোকানো হয়েছে যার মধ্যে আশ্চর্যজনক ভাবে রয়েছে বেশ কিছু চালু অ্যান্টিবায়োটিকও।

চিকিৎসকদের একাংশের প্রশ্ন, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার নিয়ে যখন সব মহল সোচ্চার, তখন তাকে ওটিসি করে দিয়ে যত্রতত্র বিক্রি অনুমোদন করার কথা ভাবছে কী করে কেন্দ্র! বিসিডিএ-র সাধারণ সম্পাদক সজল গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, 'সরকারের এমন প্রস্তাব বাস্তবের মুখ দেখতে তা সার্বিক ভাবে জনস্বাস্থ্যের জন্যই অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। সঠিক নিয়মনীতি ছাড়া ওটিসি ওষুধ বিক্রির অনুমতি জেনারেল স্টোরকে দেওয়া গুরুতর সমস্যা তৈরি করবে।'

বর্তমানে সারা ভারতে প্রায় ১২.৪০ লক্ষ রিটেইল কেমিস্ট এবং ১৩.৫ লক্ষ ফার্মাসিস্ট রয়েছেন, যারা ওটিসি ওষুধের সরবরাহের ক্ষেত্রে দেশের জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট। তাই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, কী এমন হলো যে ওই সব ওটিসি ওষুধকে খোলা বাজারে দেদার বিক্রির অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে?

Related Post

About Us

24 Hour Online Bengali & English News Portal Registered under Government of India. Head Office in Kokata.

Need Help? Connect Now