Jul 23, 2024
Political

Saayoni Ghosh Organisation : “পুরসভার যে সব ওয়ার্ড ও পঞ্চায়েতের বুথগুলিতে মাইনাস হয়েছে, সেখানে আমি নিজে কাজ করব

post-img

রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।

১০ মার্চ থেকে ৪ জুন, টানা প্রায় ৮০ দিন। চাঁদিফাটা রোদ, তীব্র দাবদাহ, ঝড়, বৃষ্টিকে তুড়ি মেরে দিনরাত এক করে দিয়েছিলেন। হাতেনাতে তার ফলও পেয়েছেন। আড়াই লক্ষের বেশি ভোটে ঐতিহ্যের যাদবপুর থেকে জয়ী তৃণমূলের তারকা প্রার্থী (TMC) সায়নী ঘোষ (Sayani Ghosh)। বিশ্রাম, ছুটি শব্দগুলি যেন সায়নীর অভিধানে নেই।

তাই যুদ্ধ জয়ের পরেও দৌড়ে বেড়াচ্ছেন এক বিধানসভা থেকে অন্য বিধানসভা। স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে করছেন ফলাফলের ময়না তদন্ত। বিপুল মার্জিনে জেতার পরেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না যাদবপুরের নব নির্বাচিত সাংসদ। আসলে সায়নী বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি আগের দুই সংসদের মতো নয়। "এলাম, দেখলাম, জয় করলাম" ফর্মুলায় বিশ্বাসী নন সায়নী। বরং, জয়ের পর যাদবপুরের প্রতিটি ঘরের মেয়ে হতে চান তিনি। যাদবপুর এখন স্থায়ী সাংসদ উপহার দিতে যা যা করার, তাই তাই করতে চান।

প্রায় আড়াই মাস মানুষের মধ্যে থেকেছেন সায়নী।যাদবপুরের প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে গিয়েছেন। ফলও পেয়েছেন, দু'হাত তুলে মানুষ আশীর্বাদ করেছে। কিন্তু সেখানেও এক বালতি দুধে কোথাও যেন একফোঁটা চোনা পড়েছে। কোথায় সামান্য হলেই ত্রুটি আছে, কোন পুরসভার কোন ওয়ার্ড বা কোন পঞ্চায়েতের কোন বুথে সামান্য হলেও ঘাটতি আছে, পুরোটাই নজরে এনেছেন সায়নী। তাঁর স্পষ্ট কথা, একজন মানুষও যদি মুখ ফিরিয়ে থাকেন, কিন্তু তাঁর সমর্থন পাওয়া গেল না সেটা জানতে হবে।
বিরোধীপক্ষকে 'শূন্য' করে নিজেদের লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে সাতটিতেই এগিয়ে রয়েছেন যে কয়েকজন বিজয়ী প্রার্থী, তার মধ্যে অন্যতম যাদবপুরে সায়নী ঘোষ। একটি বিধানসভা আসনেও বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বীদের খাতা খুলতে দেননি সায়নী।সদ্যসমাপ্ত ভোটে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীকে দুরমুশ করে জেতা এমন প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ১৪। এঁদের মধ্যে বিজেপির মাত্র এক জন। তৃণমূলের ১৩।

কিন্তু সায়নীর এই স্মরণীয় জয়ের মধ্যে কাঁটাও আছে। ৭টি বিধানসভার বেশ কয়েকটি পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় করুণ অবস্থা তৃণমূলের। বুথ ভিত্তিক ফলাফল বলছে, এমন কিছু অঞ্চল আছে, যেখানে এই মুহূর্তে পঞ্চায়েত ভোট হলে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় হবে। পাশাপাশি বেশকিছু পুরসভার ওয়ার্ড ভিত্তিক ফলাফল কাঁটাছেঁড়া করে দেখা যাচ্ছে, যেখানে তৃণমূলের তুলনায় বিজেপির ফলাফল অনেক ভালো।



'যে ওয়ার্ডে বুথে মাইনাস হয়েছে, সেখানে নিজে কাজ করব।' বললেন যাদবপুরে লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সায়নী ঘোষ। লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেও সায়নী ঘোষের এবার নজর হেরে যাওয়া ওয়ার্ড ও গ্রাম পঞ্চায়েতের বুথ গুলির ওপর।

বৃহস্পতিবার রাতে বারুইপুরের রবীন্দ্রভবনে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা এলাকার দলীয় কার্যকর্তাদের পক্ষ থেকে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।

সেখানে বক্তব্য রাখার সময় সদ্য নির্বাচিত যাদবপুর কেন্দ্রের সাংসদ সায়নী ঘোষ বলেন, “পুরসভার যে সব ওয়ার্ড ও গ্রাম পঞ্চায়েতের বুথ গুলিতে মাইনাস হয়েছে, সেখানে আমি নিজে কাজ করব। শুধু তাই নয় আমি বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে ২০১৭ টি বুথের প্রতিটি বুথে আমি যাব।” বারুইপুর রবীন্দ্রভবনে সদ্য নির্বাচিত যাদবপুর লোকসভার তৃণমূলের সাংসদ সায়নী ঘোষের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বারুইপুর পশ্চিমের বিধায়ক তথা বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবারের লোকসভা ভোটে সায়নীর বিরুদ্ধে বামেরা প্রার্থী করেছিল যাদবপুরের অতি পরিচিত মুখ সৃজন ভট্টাচার্যকে। সায়নীর ঝুলিতে যায় ৭ লক্ষ ১৭ হাজার ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় পেয়েছেন ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ভোট। জয়ের মার্জিন আড়াই লক্ষেরও বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আগে, সায়নীর ওপর প্রত্যাশা পূরণে বাড়তি চাপ ছিল।


আকার-ইঙ্গিতে সায়নী স্থানীয় নেতৃত্বকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি মিমি চক্রবর্তী নন, সুতরাং, এখন থেকে মানসিকতা বদলাতে হবে। এবং শুধুমাত্র
"শো-পিস" সাংসদ নয়, একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে যাদবপুর লোকসভায় তিনি কাজ করবেন।

যাদবপুরবাসীর জন্য প্রতিটি বিধানসভায় সংসদের দফতর থাকবে। এছাড়াও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে "দিদিকে বলো", "এক ডাকে অভিষেক" - এর মতো বিশেষ ফোন নম্বরে হেল্পলাইন নাম্বার চালু করবনে সায়নী। যেখানে মানুষ সরাসরি সাংসদকে নিজেদের অভাব, অভিযোগ, সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

Related Post

About Us

24 Hour Online Bengali & English News Portal Registered under Government of India. Head Office in Kokata.

Need Help? Connect Now