Jul 23, 2024
Political

Dilip Ghosh revolts : "কিছু দালাল বাংলায় বিজেপি পার্টিকে চালাচ্ছে" শুভেন্দু সুকান্তের বিরুদ্ধে বিষ্ফোরক দিলীপ ঘোষ

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

ফের বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ। আবারও স্বমহিমায় দিলীপ ঘোষ। লোকসভা ভোটে দলের খারাপ পারফরম্যান্স নিয়ে নাম না করে ফের একবার দলের রাজ্য নেতৃত্বকেই নিশানা দিলীপ ঘোষের। কটাক্ষের সুরে দিলীপ বললেন, 'হারা আসন জেতার জন্য প্ল্যানিং করা হয়। এখন জেতা আসন হারাবার জন্য প্ল্যানিং হয়েছে।'

এই পরিস্থিতিতে দিলীপ ঘোষ হঠাৎ করে অটল বিহারী বাজপেয়ীর একটি উক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। উক্তিটি ছিল পুরনো কর্মীদের সম্বন্ধে, যেখানে বাজপেয়ী বলেছেন, "নতুনরা গেলে যাক, কিন্তু পুরনো একজন কর্মীও যেন দল থেকে না যায়।” এই পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, "এটা আমার বক্তব্য নয়, অটল বিহারী বাজপেয়ীর বক্তব্য। এখন দল এরকম সংকট অবস্থায় রয়েছে, সময় উপযোগী বলে মনে হচ্ছে তাই পোস্ট করেছি। সংকটকালে পুরনো জায়গায় ফিরতে হয়, তাই অটল বিহারী বাজপেয়ীর কথা মনে করিয়েছে। ওল্ড ইজ গোল্ড।”

শুক্রবার সকালে তিনি বলেন, "আক্রমণ কার পারমিশন নিয়ে হয়? কর্মীরা কান্নাকাটি করে বাড়ি ছাড়া হয়। তখন কি ফর্মালিটি করব? নাকি মানবতার ডাকে সাড়া দেব? ওরা তো সুন্দরবন থেকে এখানে এসে আমার সঙ্গে দেখা করে গেছে। প্রোগ্রাম করার জন্য পারমিশন নিতে হয়। মানুষের সঙ্গে দেখা করার জন্য কারুর পারমিশন নিতে হয়না। আমি চিরদিন কর্মীদের সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু পার্টির প্রোগ্রামে আমি ৪ বছর ধরে যাইনা। আমাকে ডাকেও না। আমার মতামতও নেয়না। আমি পার্টির কর্মীদের সঙ্গে থাকি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকি। আমি যতদিন রাজনীতি করব আমি এরকমই থাকব। রাজনীতি ছেড়ে দিলে অন্য ভাবে মানুষের পাশে থাকব। মানুষের কাছে যেতে কেউ কাউকে আটকাতে পারেনা।

দিলীপ ঘোষ ব্রাত্য কেন?

পর্যালোচনা হওয়া উচিৎ। কর্মীরা বলবেন কি সমস্যা হয়েছে এখানে। আমি আমার লোকসভা (মেদিনীপুর) সময় দিয়েছি। তারপর কিছুদিন অন্য একটি রাজ্য (আন্দামান) সময় দিয়েছি। গত ১ বছর ধরে সম্পূর্ন সময় মেদিনীপুরে দিয়েছিলাম। টাকা পয়সা সময় সব দিয়েছি। আমাকে লড়তে দেওয়া হয়নি। তার রেজাল্ট সবাই দেখে নিয়েছে।

রাজ্য সভাপতি বদলের দাবি আনাচে কানাচে

পার্টিতে এটা হয়। রেজাল্ট খারাপ হলে মনে ক্ষোভ জাগে। সবাই মতামত ব্যক্ত করে। এরা সবাই পার্টির স্বার্থে কথা বলছেন। এদের মতামত নেওয়া উচিৎ। এদের সঙ্গে কথা বলা উচিত। নাহলে কয় মাস পর সবাই এইসব ভুলে যাবে। আবার এক রেজাল্ট হবে। যারা অভিভাবক এটা তাদের দায়িত্ব।

দিল্লি যাবেন আপনি ?

এখন না। পরে যাবো। ওখানে আমার একটা কোয়ার্টার আছে। সেটা সরকারকে বুঝিয়ে দিয়ে পেপার জমা দিয়ে আসতে হবে। জিনিসপত্র নিয়ে আসতে হবে।

১৯ এর ভোট খড়গপুরে বিজেপির হার : কটাক্ষ সুকান্তর

তাহলে মাত্র ২৭ হাজার হারল কেন? দেড় দুই লাখে হারত। আমি ৮৯ হাজার জিতেছিলাম। তার সঙ্গে ২৭ হাজার যোগ করুন। যারা এসব বলছেন তারা পিঠ বাঁচানোর জন্য বলছেন। বাস্তব তো তথ্যে প্রকাশ। ওখানকার কর্মীরা সব জানে।

লোকসভা নির্বাচনে আমরা এগোই। বিধানসভায় পিছিয়ে থাকি। ১৯ এর লোকসভায় আমরা ৪১ শতাংশ পেয়েছিলাম। ২১ এর বিধানসভায় সেটা নেমে ৩৮ শতাংশ হয়। এবার লোকসভা তে ৪১ শতাংশ তো পার হওয়া উচিত ছিল। সেটা কমে গেল তো। আবার ৩৮ এ ফিরে এলো। এটাই তো পর্যালোচনার বিষয়। ভোট কমল কেন? এতো নেতা এসে গেছে। বলছে সংগঠন বেড়েছে। এবার তো প্রধানমন্ত্রী সব জায়গায় গেছেন। এতো সাংসদ বিধায়ক ছিল। তাহলে ভোট কমল কেন? ভাবার দরকার আছে।

দেবশ্রী চৌধুরী কেস

কি সব যুক্তি দেওয়া হয়েছে। আমি নাকি মেদিনীপুরে দাঁড়ালে হেরে যাবো। কারণ ওখানে নাকি কুরমি রা আমাদের বিরুদ্ধে। যেখানে কুরমি ভোট বেশি সেই পুরুলিয়া আসনে বিজেপি জিতেছে। আমার বিরুদ্ধে কুরমি দের খ্যপানো হয়েছিল। আমাকে সরানোর জন্য এটা করা হয়েছিল। দেবশ্রী যেখানে কাজ করেছে বা মন্ত্রী ছিল সেখানে আমরা এবারও জিতেছি।

একজন কাউন্সিলর ওখানে লোকসভা জিতেছে। তাকে কেউ চিনতোই না। একটা গ্রামীণ পুরসভার নেতা। তাহলে দেবশ্রী ওখানে জিতত না? এর পিছনে কি আছে? এসব কেন করা হয়েছে এগুলো ভাবতে হবে। কিছু তো একটা ব্যাপার আছে। নাহলে যারা পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতা তাদের কি হারানোর জন্য পাঠানো হয়েছিল? লোকে হারা আসন জেতার জন্য প্ল্যানিং করে। এতো দেখছি জেতা আসন হারাবার জন্য প্ল্যানিং হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

Related Post

About Us

24 Hour Online Bengali & English News Portal Registered under Government of India. Head Office in Kokata.

Need Help? Connect Now