বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ • ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ • দুপুর ২:৪৯
কলকাতা সারাদিন সব খবর • সবার আগে
গ্যাজেট

Smartphone Security: একটা ভুলেই বিপদ! অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে এই সেটিংসগুলি বদলান, সুরক্ষিত রাখুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

ফোন সুরক্ষিত রাখতে কোন সেটিংসগুলি বদলাবেন?

Smartphone Security: একটা ভুলেই বিপদ! অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে এই সেটিংসগুলি বদলান, সুরক্ষিত রাখুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট
ছবি: কলকাতা সারাদিন • কলকাতা

সকালে অ্যালার্ম বন্ধ করা থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কের লেনদেন, অফিসের ই-মেল কিংবা ব্যক্তিগত কথাবার্তা—সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে স্মার্টফোন। আর সেই ফোনের নিরাপত্তায় সামান্য অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করা, ভুয়ো অ্যাপ ইনস্টল করা কিংবা কারও সঙ্গে OTP ভাগ করে নেওয়ার মতো ভুলে ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা এবং ফোন ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। অ্যান্ড্রয়েড (Android security settings) ও আইফোন (iPhone security tips)—দুই ধরনের ফোনেই রয়েছে এমন কিছু সুবিধা, যেগুলি ব্যবহারকারীদের অবশ্যই জেনে রাখা দরকার। মনে রাখতে হবে, কোনও ফোনকেই শতভাগ হ্যাকিং-প্রতিরোধী বলা যায় না। তাই শুধু সেটিংস বদলালেই সব বিপদ দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ১. অ্যান্ড্রয়েড ফোনে চালু রাখুন Google Play Protect অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের প্রথমেই দেখে নেওয়া উচিত, ফোনে Google Play Protect সক্রিয় রয়েছে কি না। এই সুবিধা অ্যাপের নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে এবং ক্ষতিকর অ্যাপ শনাক্ত করতে সাহায্য করে (Google Play Protect security)। যেভাবে চালু করবেন: * Google Play Store খুলুন। * উপরের প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করুন। * Play Protect অপশনে যান। * Settings-এ গিয়ে Scan apps with Play Protect চালু রাখুন। এতে ক্ষতিকর অ্যাপের ঝুঁকি কমতে পারে। তবে সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করা বা অপরিচিত অ্যাপে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতেই হবে। ২. অজানা উৎস থেকে APK ইনস্টল করার অনুমতি বন্ধ রাখুন বিনামূল্যে রিচার্জ, পুরস্কার কিংবা নতুন গেমের প্রলোভন দেখিয়ে অনেক সময় APK ফাইল পাঠানো হয়। যাচাই না করে সেই ফাইল ইনস্টল করলে ফোনের তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে (Android malware protection)। ফোনের Settings-এ গিয়ে Apps বা Special app access-এর মধ্যে Install unknown apps অপশনটি খুঁজুন। যেসব অ্যাপের মাধ্যমে বাইরের উৎস থেকে ইনস্টল করার অনুমতি দেওয়া রয়েছে, প্রয়োজন না থাকলে সেই অনুমতি বন্ধ রাখুন। ফোনের মডেল অনুযায়ী মেনুর নাম আলাদা হতে পারে। ৩. আইফোনে ব্যবহার করুন Stolen Device Protection আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা হল Stolen Device Protection (iPhone theft protection)। ফোন চুরি হয়ে গেলে সংবেদনশীল অ্যাকাউন্ট ও নিরাপত্তা সেটিংস পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে এটি সাহায্য করে। Settings থেকে Face ID & Passcode-এ গিয়ে এই সুবিধা চালু করা যায়। প্রয়োজনে Security Delay-এর সেটিংসও পরীক্ষা করুন। তবে এটি ফোন চুরি হওয়া বা অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের সব সম্ভাবনা বন্ধ করে না। Lockdown Mode-ও রয়েছে আইফোনে। এটি মূলত অত্যন্ত জটিল ও লক্ষ্যভিত্তিক সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য। সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ফোন ও অ্যাপ আপডেট রাখা এবং শক্তিশালী পাসকোড ব্যবহার করাই বেশি জরুরি। ৪. Gmail ও WhatsApp-এর নিরাপত্তায় বাড়তি নজর ফোনের নিরাপত্তার পাশাপাশি ই-মেল ও মেসেজিং অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখাও প্রয়োজন (Gmail security tips)। Google Account-এর Security বিভাগে গিয়ে 2-Step Verification চালু করুন। সম্ভব হলে পাসকি বা নির্ভরযোগ্য অথেনটিকেশন অ্যাপ ব্যবহার করুন। শুধু SMS OTP-র উপর নির্ভর না করাই ভালো। তবে কোনও পদ্ধতিই সব ধরনের প্রতারণা থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেয় না। WhatsApp-এর Settings থেকে Account বা Privacy বিভাগে গিয়ে Two-step verification চালু করুন। পাশাপাশি Fingerprint Lock বা Face ID-র মতো অ্যাপ লক ব্যবহার করতে পারেন। অপরিচিত নম্বরের অপ্রয়োজনীয় কল কমাতে Silence Unknown Callers সুবিধাটিও কাজে আসতে পারে। ৫. যে ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কয়েকটি অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Cyber safety tips): * অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। * কাউকে OTP, পাসওয়ার্ড বা PIN জানাবেন না। * ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ নিয়মিত আপডেট করুন। * প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। * ব্যাঙ্কের লেনদেনের সতর্কবার্তা চালু রাখুন এবং অচেনা লেনদেন দেখলে দ্রুত ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। মনে রাখবেন, একটি নিরাপত্তা সেটিংস নয়, বরং একাধিক সুরক্ষাব্যবস্থা ও সচেতন অভ্যাসই স্মার্টফোনকে নিরাপদ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রযুক্তির সুবিধা নিতে গিয়ে সামান্য অসতর্কতা যেন আপনার ব্যক্তিগত তথ্য বা সঞ্চয়ের ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে নজর রাখুন।

👁 এই সংবাদটি পড়েছেন ০ জন পাঠক