শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ • ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ • দুপুর ২:৫৮
কলকাতা সারাদিন সব খবর • সবার আগে
সোনারপুর

Sonarpur : টোটো ইউনিয়নের দখল ও চাঁদার টাকা নিয়ে সংঘর্ষে উত্তপ্ত সোনারপুর! সুভাষগ্রাম স্টেশন চত্বরে মারামারি, জখম ৬, গ্রেফতার ২

সুভাষগ্রাম স্টেশন চত্বরে টোটো ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ। আহত অন্তত ৬, গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত-সহ ২ জন।

Sonarpur : টোটো ইউনিয়নের দখল ও চাঁদার টাকা নিয়ে সংঘর্ষে উত্তপ্ত সোনারপুর! সুভাষগ্রাম স্টেশন চত্বরে মারামারি, জখম ৬, গ্রেফতার ২
ছবি: কলকাতা সারাদিন • কলকাতা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে \[Sonarpur\] টোটো ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়াল সুভাষগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন \[Subhashgram Railway Station\] চত্বরে। টোটো ইউনিয়নের দখল এবং আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিবাদ শেষ পর্যন্ত হাতাহাতি ও মারামারির পর্যায়ে পৌঁছয়। এই ঘটনায় অন্তত পাঁচ থেকে ছয় জন টোটোচালক আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে সোনারপুর থানার পুলিশ মূল অভিযুক্ত তপন দাস ওরফে 'তাপি'-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় টোটো চলাচল এবং ইউনিয়নের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে আক্রান্ত চালকদের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, সেই বিবাদের জেরেই আচমকা তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে দাবি করা হয়েছে। তবে আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ ঘিরেই কি সংঘর্ষ? স্থানীয় সূত্র এবং আক্রান্ত টোটোচালকদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুভাষগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন টোটো ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল। ইউনিয়নের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন নিয়েও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। আক্রান্ত চালকদের দাবি, তপন দাসের নেতৃত্বে ভিকি মণ্ডল, ভোলা এবং শুভেন্দু চক্রবর্তী-সহ একদল ব্যক্তি তাঁদের উপর চড়াও হন। আচমকা হামলার জেরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় মারামারি। এই সংঘর্ষে একাধিক টোটোচালক আহত হন। আক্রান্তদের অভিযোগ, ইউনিয়নের দখল নেওয়া এবং চাঁদার টাকা সংগ্রহ ও বণ্টনকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ইউনিয়নের আর্থিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। যদিও এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পাল্টা অভিযোগ তপন দাসের নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অবশ্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তপন দাস। তাঁর দাবি, ঘটনার জন্য তাঁকে দায়ী করা হলেও প্রকৃত বিবাদের কারণ অন্যত্র। উল্টে বিপরীত শিবিরের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তপন দাসের অভিযোগ, ইউনিয়নের নাম করে সাধারণ টোটোচালকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই অর্থের বড় অংশ আত্মসাৎ ও তছরুপ করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। অর্থাৎ, ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের পাশাপাশি সংগঠনের তহবিল এবং চালকদের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকা নিয়েও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সমর্থনে কোনও নথি বা প্রমাণের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা। সংঘর্ষ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর সুভাষগ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। টোটো ইউনিয়নের দখল ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনৈতিক দলের নেতারা পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয় স্তরে এই বিবাদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। সিপিআইএম নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় বিজেপিকে নিশানা করেছেন। তাঁর কটাক্ষ, বিজেপির 'ভরসা ইন, ভয় আউট' স্লোগানের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনও মিল নেই। সোনারপুরের এই ঘটনাকে সামনে রেখে তিনি দাবি করেন, বিজেপির প্রচারিত বার্তার সম্পূর্ণ বিপরীত ছবিই দেখা যাচ্ছে এলাকায়। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সমরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় দখলদারির রাজনীতি চালানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। সেই রাজনীতির পরিণতিতেই এই ধরনের হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তবে সংঘর্ষের পিছনে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ চললেও পুলিশের তদন্তে সেই দিকটি কতটা গুরুত্ব পায়, তা দেখার। গ্রেফতার ২, তদন্তে সোনারপুর থানার পুলিশ ঘটনার পর লিখিত অভিযোগ জমা পড়তেই তদন্তে নামে সোনারপুর থানার পুলিশ \[Sonarpur Police Station\]। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তপন দাস ওরফে 'তাপি'-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে কী কী নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং সংঘর্ষে তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হামলার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, কীভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল এবং ইউনিয়নের আর্থিক লেনদেন নিয়ে ওঠা অভিযোগের পিছনে কোনও বাস্তব ভিত্তি রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সুভাষগ্রাম স্টেশন চত্বরের টোটোচালকদের জীবিকার সঙ্গে এই ইউনিয়নের কার্যকলাপ সরাসরি যুক্ত। ফলে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদ এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ স্থানীয় চালকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এই ঘটনার জেরে টোটো পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন, এই সংঘর্ষ কি শুধুই ইউনিয়নের কর্তৃত্ব ও আর্থিক লেনদেনের বিবাদ, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও কোনও সংঘাতের সূত্র? দুই পক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতাদের পাল্টা বক্তব্য এবং পুলিশের গ্রেফতারি—সব মিলিয়ে সোনারপুরের এই ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর রয়েছে।

👁 এই সংবাদটি পড়েছেন ০ জন পাঠক