'হাসি রানি রথের ছেলেকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে আমার সহযোগী ছিল বলে। সাত জনকে সিবিআই গ্রেফতার করেছে। সুপারি কিলার আর শ্যুটার গ্রেফতার হয়েছে। এখন ২ কোটি টাকা সুপারি কে দিয়েছিল সেটা জানা বাকি। বিচার পাবেন হাসি রানি।' নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে জিতে নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথের শপথ গ্রহণ উপলক্ষে এভাবেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিচারের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই নাম না করে ঘুরিয়ে বলেন, 'এই ২ কোটি কোথা থেকে এসেছিল? কালীঘাট নাকি ক্যামাকস্ট্রিট থেকে এসেছিল? নাকি ডায়মন্ড-হারবারের কেউ দিয়েছিল? এইটুকুই জানা বাকি। এটা জানা হয়ে গেলেই তদন্তের বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে আমার বিশ্বাস।' এর আগে শুভেন্দু সরাসরি বলেছিলেন ‘ভাইপো গ্যাং’-এর কথা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'চন্দ্রনাথকে খুন করতে শ্যুটার এবং তাঁদের যাঁরা সুপারি দিয়েছিলেন তেমন সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমার যেটুকু জানা আছে, ওকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দু’কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এই টাকা সরবরাহের কাজ ভাইপো গ্যাং করেছে।’ এরপর ফের একবার নাম না করে অভিষেকের দিকেই ইঙ্গিত ঘোরালেন শুভেন্দু। বিজেপিকে 'সাম্প্রদায়িক দল' তকমা খন্ডন বুধবার বিধানসভায় শপথগ্রহণ করেন রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে জয়ী দুই বিজেপি বিধায়ক হাসিরানি রথ এবং শাখারভ সরকার। শপথগ্রহণের পরেই দুটি উপনির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়কে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে বিগত শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী শিবিরের দীর্ঘদিনের অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি দাবি করেন, বিজেপিকে 'সাম্প্রদায়িক দল' বলে দাগিয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা চলে আসছিল, রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফলাফল তা পুরোপুরি চুরমার করে দিয়েছে। রেজিনগরের ভোট সমীকরণের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, 'রেজিনগর বিধানসভার প্রায় ৩০০টি বুথের মধ্যে মাত্র ১০০টি বুথ ছিল সনাতনী বা হিন্দু অধ্যুষিত। বাকি বিপুল সংখ্যক সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথ থেকেও আমাদের প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫ হাজারের বেশি ভোটের বিশাল লিড পেয়েছেন। সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলিম বোনেরা, যাঁরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পান, তাঁরাও বিজেপির ওপর ভরসা রেখেছেন। আমরা সনাতনী, আমরা হিন্দু, আমরা সানন্দে কপালে টিকা লাগাই; কিন্তু সরকার ও প্রশাসন চালানোর ক্ষেত্রে আমরা কোনও বৈষম্য না করে সমস্ত নাগরিকের উন্নয়নকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই।' 'এই বয়সে বিশ্রাম নেওয়াই ভাল মমতার' ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি শুভেন্দু লড়েছিলেন ভবানীপুর থেকেও। ভবানীপুরে তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতাকে হারান। বুধবার তিনি ব্যাখ্যা করেন নন্দীগ্রাম কেন ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, তিনি যদি ভবানীপুর ছেড়ে দিতেন তবে সেই আসনে আবার দাঁড়াতে পারতেন মমতা। সেই সুযোগ দিতে চাননি। মমতার নাম না-করে শুভেন্দুর কটাক্ষ, 'ভবানীপুর ছাড়লে যিনি আমার কাছে দু'বার হেরেছেন, তিনি দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন। সেই সুযোগটা না দেওয়াই ভাল। এই বয়সে তাঁর না দাঁড়ানোই ভাল। অনেক বয়স হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৭৫। এই বয়সে বিশ্রাম নেওয়ার কথা। সেই কারণে আমি নন্দীগ্রাম ছেড়েছি।'
Suvendu Assembly : 'চন্দ্রনাথকে খুন করতে ২ কোটি কোথা থেকে এসেছিল? কালীঘাট নাকি ক্যামাকস্ট্রিট থেকে এসেছিল? নাকি ডায়মন্ড-হারবারের কেউ দিয়েছিল? এইটুকুই জানা বাকি' বিধানসভায় বিষ্ফোরক শুভেন্দু
বিধানসভায় বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী! ‘চন্দ্রনাথকে খুন করতে ২ কোটি কোথা থেকে এসেছিল?’ কালীঘাট, ক্যামাক স্ট্রিট না ডায়মন্ড হারবার—তুললেন প্রশ্ন
👁 এই সংবাদটি পড়েছেন ০ জন পাঠক