বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ • ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ • দুপুর ৩:৪০
কলকাতা সারাদিন সব খবর • সবার আগে
ভারত

দুর্গাপুরে নিজের সার্ভিস রিভলভার মাথায় ঠেকিয়ে গুলি, মৃত্যু পুলিশ কনস্টেবলের

পানাগরে জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোডে ডিউটি চলাকালীন নিজের সার্ভিস রিভলভারের গুলিতে মৃত্যু কাঁকসা ট্রাফিক গার্ডের কনস্টেবল সঞ্জয় জানার। ঘটনার তদন্তে পুলিশ।

দুর্গাপুরে নিজের সার্ভিস রিভলভার মাথায় ঠেকিয়ে গুলি, মৃত্যু পুলিশ কনস্টেবলের
ছবি: কলকাতা সারাদিন • কলকাতা

কর্তব্যরত অবস্থাতেই নিজের সার্ভিস রিভলভারের গুলিতে মৃত্যু হল এক পুলিশ কনস্টেবলের। মঙ্গলবার রাতে পশ্চিম বর্ধমানের পানাগর \[Panagarh, West Bengal\]-এ জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোডের ধারে ঘটে এই ঘটনা। মৃত পুলিশকর্মীর নাম সঞ্জয় জানা। তিনি কাঁকসা ট্রাফিক গার্ডের \[Kanksa Traffic Guard\] কনস্টেবল ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, নিজের সার্ভিস রিভলভার মাথায় ঠেকিয়ে গুলি চালান তিনি। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট \[Asansol-Durgapur Police Commissionerate\]।

মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনায় সহকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ডিউটিতে থাকা একজন পুলিশকর্মীর এভাবে মৃত্যু ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কেন তিনি নিজের সার্ভিস রিভলভার ব্যবহার করে গুলি চালালেন, সে সম্পর্কে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

হোটেলের সামনে ডিউটি, আচমকাই গুলির শব্দ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পানাগরের জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোডের ধারে একটি হোটেলের সামনে কর্তব্যরত ছিলেন সঞ্জয় জানা। ওই সময় পুলিশের গাড়ি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েছিল। গাড়ি থেকে নেমে কয়েকজন পুলিশকর্মী হোটেলের ভিতরে বসেছিলেন। সেই সময় গাড়ির সামনের দিকে ঘোরাফেরা করছিলেন সঞ্জয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিস্তারিত বিবরণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজের মাথায় সার্ভিস রিভলভার ঠেকিয়ে গুলি চালান ওই কনস্টেবল। আচমকা এই ঘটনায় আশপাশের পুলিশকর্মীরা ছুটে আসেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন সহকর্মীরা।

কীভাবে এত অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাটি ঘটল, তা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য পুলিশকর্মীদের কাছ থেকেও ঘটনার বিবরণ সংগ্রহ করা হতে পারে।

হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও বাঁচানো গেল না

গুলির শব্দ শোনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন সহকর্মীরা। দেরি না করে গুরুতর আহত অবস্থায় সঞ্জয় জানাকে উদ্ধার করে বিধাননগরের \[Bidhannagar, Durgapur\] একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশ মহলে শোকের আবহ তৈরি হয়। কর্মরত অবস্থায় একজন সহকর্মীর এমন পরিণতি স্বাভাবিকভাবেই অন্য পুলিশকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ঘটনার পিছনে কোনও ব্যক্তিগত কারণ, কর্মক্ষেত্রের চাপ কিংবা অন্য কোনও পরিস্থিতি ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি পুলিশ।

ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল, নমুনা সংগ্রহের প্রস্তুতি

ঘটনার পরই সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। পানাগরের সার্ভিস রোডে যেখানে গুলির ঘটনা ঘটেছে, সেই জায়গাটি গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে, যাতে তদন্ত চলাকালীন ঘটনাস্থলের কোনও প্রমাণ নষ্ট না হয়।

তদন্তের জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের \[Forensic Investigation\] ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হবে। কীভাবে গুলি চলেছিল, ঘটনাস্থলে ঠিক কী অবস্থায় কনস্টেবলকে পাওয়া গিয়েছিল এবং তাঁর ব্যবহৃত সার্ভিস রিভলভারের পরিস্থিতি কী ছিল, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।

পুলিশের তদন্তে ঘটনাস্থলের নমুনার পাশাপাশি অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ডিউটির সময় ব্যবহৃত সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে কীভাবে গুলি চলল, তা নির্ধারণ করাও তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

কী বলছে পুলিশ কমিশনারেট?

ঘটনা সম্পর্কে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ডা. প্রণব কুমার বলেন, "নিজেই গুলি করেছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা করে মৃত বলে ঘোষণা করে। কী কারণে মৃত্যু সেই নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।"

পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যে গুলি চালানোর বিষয়টি উঠে এলেও কেন এই ঘটনা ঘটল, তার কোনও নির্দিষ্ট কারণ এখনও জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও পরিস্থিতি বা কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত

মেদিনীপুর \[Medinipur\] ছিল সঞ্জয় জানার বাড়ি। কর্মসূত্রে তিনি দুর্গাপুর \[Durgapur\]-এ পোস্টিং পেয়েছিলেন এবং কাঁকসা ট্রাফিক গার্ডে কর্মরত ছিলেন। কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী ও পরিচিত মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তদন্তকারীদের সামনে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ঠিক কী কারণে তিনি এমন পদক্ষেপ করলেন? ঘটনার আগে কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না? ডিউটির সময় তাঁর সঙ্গে কারও কোনও কথা বা ঘটনা ঘটেছিল কি না? এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে কোনও কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য না থাকায় অনুমানভিত্তিক মন্তব্য এড়াচ্ছে পুলিশ। ফরেনসিক রিপোর্ট, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগোবে।

একজন পুলিশকর্মীর কর্তব্যরত অবস্থায় এমন মৃত্যুর পিছনে প্রকৃত কারণ কী, এখন সেই উত্তরই খুঁজছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর রয়েছে।

👁 এই সংবাদটি পড়েছেন ০ জন পাঠক