কলকাতার \[Kolkata\] শহরজুড়ে সৌন্দর্যায়ন এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নে একগুচ্ছ বড় পরিকল্পনা নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার \[West Bengal Government\]। কলেজ স্ট্রিটের \[College Street\] ঐতিহ্যবাহী বইপাড়া থেকে কলকাতার চায়না টাউন \[Kolkata Chinatown\], গঙ্গার দুই পাড় থেকে শুরু করে হাওড়ার \[Howrah\] নদীসংলগ্ন এলাকা—সবকিছুকেই নতুন রূপে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শুধু সৌন্দর্যায়ন নয়, শহরে তৈরি হতে পারে সাইকেল চালানোর জন্য পৃথক লেন এবং পথচারীদের জন্য প্রশস্ত রাস্তা ও ফুটপাত। হকারদের জন্য আধুনিক বাজার, বস্তিবাসীদের স্থায়ী আবাসন এবং শহরাঞ্চলে পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এই সমস্ত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল \[Agnimitra Paul\]। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ সংস্থা এবং বিভিন্ন অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক সমঝোতাপত্র বা মউ (MoU) স্বাক্ষর করেছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর \[West Bengal Urban Development Department\]। মন্ত্রীর বক্তব্য, কলকাতাকে বিশ্বের উন্নত শহরগুলির পরিকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজিয়ে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভের আদলে সাজবে গঙ্গার দুই পাড় শহরের সৌন্দর্যায়ন পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ গঙ্গার নদীতীরবর্তী এলাকার উন্নয়ন। মুম্বইয়ের \[Mumbai\] মেরিন ড্রাইভ \[Marine Drive\]-এর আদলে কলকাতায় গঙ্গার দুই পাড়ের সৌন্দর্যায়ন এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। এই প্রকল্পের জন্য কলকাতা পুরসভা \[Kolkata Municipal Corporation\] এবং কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন ন্যাশনাল বিল্ডিংস কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (NBCC)-এর সঙ্গে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কলকাতা ও হাওড়ার গঙ্গার দু'পাশের একাধিক এলাকার চেহারা বদলানোর সুযোগ তৈরি হবে। শুধু নদীতীর নয়, শহরের ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলিকেও নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কলকাতার পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়া এবং চায়না টাউনের পরিকাঠামো ও সৌন্দর্যায়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাইকেল চালানো ও হাঁটার জন্য থাকবে পৃথক লেন শহরের রাস্তায় যানবাহনের পাশাপাশি সাইকেল চালক এবং পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। উন্নত আন্তর্জাতিক শহরগুলির পরিকাঠামোর আদলে কলকাতাতেও পৃথক সাইকেল লেন \[Dedicated Cycling Lanes\] তৈরির ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পথচারীদের হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত রাস্তা এবং ফুটপাতের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী। শহরের রাস্তায় হাঁটাচলা এবং সাইকেল চালানোর পরিবেশ আরও সুবিধাজনক করে তোলাই এর উদ্দেশ্য। তবে এই পৃথক লেনগুলি কোথায়, কতটা এলাকাজুড়ে এবং কবে থেকে তৈরি হবে, তার বিস্তারিত সময়সীমা এখনও জানানো হয়নি। ফুটপাত থেকে সরানো হবে হকারদের, কীভাবে হবে পুনর্বাসন? কলকাতার ফুটপাত দখল এবং হকারদের ব্যবসার জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যা রয়েছে। পথচারীদের চলাচলের সুবিধা বজায় রেখেই হকারদের জীবিকা সুরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য অনুযায়ী, ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। সেই পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে শুধু দোকান তৈরি করে দেওয়াই নয়, বিকল্প ব্যবসার নানা মডেলও বিবেচনা করা হচ্ছে। বিদেশের বিভিন্ন শহরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তৈরি হতে পারে ফুড পার্ক \[Food Parks\], নির্দিষ্ট সময়ের বাজার এবং টেন্টের মাধ্যমে ব্যবসা করার ব্যবস্থা। এমনকী, টোটোকেও দোকান হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ব্যবসা করার জন্য ফুটপাতের উপরেই বসতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। পরিকল্পিত হকার জোন \[Dedicated Hawker Zones\] তৈরি করে ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে ব্যাঙ্ককের \[Bangkok\] আদলে নির্দিষ্ট হকার জোন তৈরির পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। সরকারি উদ্যোগে আধুনিক দোকান তৈরি করে হকারদের পুনর্বাসন দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন শহরে পাবলিক টয়লেট \[Public Toilets\] নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্যে স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (SUDA) এবং কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA)-র মধ্যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। বস্তিবাসীদের জন্য স্থায়ী বাড়ির পরিকল্পনা শহরের সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি বস্তি এলাকার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার উপরেও জোর দিচ্ছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। দিল্লি \[Delhi\], মহারাষ্ট্র \[Maharashtra\] এবং গুজরাতের \[Gujarat\] বিভিন্ন মডেল অনুসরণ করে বস্তিবাসীদের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যাঁদের নিজস্ব জমি রয়েছে, তাঁদের সেই জমিতেই বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার ভাবনা রয়েছে সরকারের। আবার যাঁদের নিজস্ব জমি নেই, তাঁদের জন্যও বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের আবাসন প্রকল্পের সাহায্য নেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি যে সময়সাপেক্ষ, তা স্পষ্ট করেছেন অগ্নিমিত্রা পাল। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সমস্যা, জমির পরিস্থিতি এবং তাঁদের প্রকৃত প্রয়োজন খতিয়ে দেখেই ধাপে ধাপে কাজ এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে। মায়াপুরের ইসকন চত্বরেও উন্নয়নের উদ্যোগ কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নেও উদ্যোগী হয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। নদিয়ার \[Nadia\] মায়াপুরের \[Mayapur\] ইসকন মন্দির \[ISKCON Mayapur\] চত্বরে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও পর্যটকের সমাগম হয়। তাঁদের যাতায়াত এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে মায়াপুর এলাকার উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য নবদ্বীপ পুরসভা \[Nabadwip Municipality\], আরবান অ্যান্ড মিউনিসিপ্যাল অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের অধীনস্থ সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউএমডিএ (UMDA) এবং এনবিসিসি-র মধ্যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়া, চায়না টাউন, গঙ্গার নদীতীর, মায়াপুর এবং শহরের বস্তি এলাকা—সব মিলিয়ে একাধিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। তবে পরিকল্পনাগুলির বাস্তবায়ন, নির্দিষ্ট প্রকল্পের নকশা এবং কাজ শুরুর সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে কলকাতা ও রাজ্যের অন্যান্য শহরের বাসিন্দারা এই ঘোষণাগুলির বাস্তব রূপ দেখার অপেক্ষায় থাকবেন।
কলেজ স্ট্রিট থেকে গঙ্গার পাড়, ঢেলে সাজবে কলকাতা! তৈরি হবে সাইকেল ও পথচারীদের পৃথক লেন, হকারদের পুনর্বাসনের ঘোষণা অগ্নিমিত্রা পালের
কলেজ স্ট্রিট, চায়না টাউন থেকে গঙ্গার পাড়—কলকাতার সৌন্দর্যায়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা রাজ্যের। হকার পুনর্বাসন, সাইকেল লেন ও বস্তি উন্নয়নেও বিশেষ উদ্যোগের কথা জানালেন অগ্নিমিত্রা পাল।
👁 এই সংবাদটি পড়েছেন ০ জন পাঠক