ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে শীত এলেই বাজে পৌষমেলার ঢাক। বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী এই মেলা সামনে রেখে প্রস্তুতি এখন শেষ পর্বে। মেলার মাঠে স্টল সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে, আর দেশ-বিদেশের পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে হোটেল ও হোম-স্টে মালিকদের মধ্যে ব্যস্ততা চরমে।
পৌষমেলার আসল আকর্ষণ লোকশিল্প ও লোকসংগীত। বাঁকুড়ার মাটির ঘোড়া, বীরভূমের কাঁথা, পুরুলিয়ার ছাউনি নাচের দল আর বাউলদের আখড়া — প্রতি বছরের মতো এবারও মেলার সূচিতে থাকছে এই সব রঙ। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রার্থনা সঙ্গীতের আসরও থাকবে যথারীতি।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে দেখানো হবে
পর্যটন সংস্থাগুলোর হিসাবে, পৌষমেলার সপ্তাহে শান্তিনিকেতনে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে বহুগুণ। বোলপুর স্টেশনে বিশেষ ট্রেনের চাপ, সঙ্গে শীতের ছুটির মৌসুম — সব মিলিয়ে এই সময়টাতেই স্থানীয় অর্থনীতির বার্ষিক চাকা সবচেয়ে জোরে ঘোরে। প্রশাসন নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতার বিশেষ পরিকল্পনাও প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা কেবল একটি মেলা নয় — বাংলার লোকসংস্কৃতির বার্ষিক হিসাব। যত দিন এই হিসাব চলবে, তত দিন বাংলার শিকড় টিকে থাকবে তার নিজের গানে, নিজের রঙে।