সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ • ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ • রাত ১১:২৭
কলকাতা সারাদিন সব খবর • সবার আগে
বাংলার রাজনীতি

Suvendu on Matua : 'আগামী বাজেটে ঠাকুরনগরকে পুরসভা ঘোষণা করা হবে, মতুয়া ধর্ম মহামেলাকে জাতীয় মেলা চেষ্টা করব' মতুয়াগড়ে গিয়ে ঘোষণা শুভেন্দুর

শুভেন্দু অধিকারীর বড় ঘোষণা! আগামী বাজেটে ঠাকুরনগরকে পুরসভা করার আশ্বাস, মতুয়া ধর্ম মহামেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতির উদ্যোগ

Suvendu on Matua : 'আগামী বাজেটে ঠাকুরনগরকে পুরসভা ঘোষণা করা হবে, মতুয়া ধর্ম মহামেলাকে জাতীয় মেলা চেষ্টা করব' মতুয়াগড়ে গিয়ে ঘোষণা শুভেন্দুর
ছবি: কলকাতা সারাদিন • কলকাতা

'আগামী বাজেটে ঠাকুরনগরকে পুরসভা ঘোষণা করা হবে। মতুয়া ধর্ম মহামেলাকে জাতীয় মেলা চেষ্টা করব।' মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার বনগাঁতে ঠাকুরনগরে গিয়ে এমন ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মতুয়াগড়ে গিয়ে একগুচ্ছ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, আগামী বছরের মধ্যে ঠাকুরনগরকে পুরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ মতুয়াদের জন্য আলাদা পুরসভা দিতে চলেছে বিজেপি সরকার। বনগাঁ পুরসভার মধ্যেই পড়ে ঠাকুরনগর। কিন্তু সেটি পৃথক পুরসভা হিসেবে শুভেন্দুর ঘোষণার পরই মতুয়াদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মতুয়া বোর্ড গঠন করা হবে। তার জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করবে রাজ্য সরকার। আজ, রবিবার থেকেই ঠাকুরবাড়িতে আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনে শুরু হচ্ছে। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, এই সরকার শুধুমাত্র বিজেপির নয়, আপনারদেরও। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শুনানি শেষ করে সিএএ সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে সরকার সবরকমভাবে সাহায্য করবে বলেও ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। এদিন এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কড়া ভাষায় পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ শানান। ঠাকুরনগরে গিয়ে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আশ্বাস, ‘সিএএ তে আড়াই লক্ষ আবেদন করেছেন মতুয়া উদ্বাস্তু মানুষেরা। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সকলকে সিএএ শংসাপত্র দেওয়া হবে। ২৫ হাজার মানুষ শংসাপত্র পেয়ে গিয়েছে।’ এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'ঠাকুরনগরে এসে অমিত শাহ বলেছিলেন সিএএ আইন লাগু করা হবে। ৬ মার্চ, ২০২৪ সালে তা লাগু হয়েছে। ভারতবর্ষের সমস্ত রাজ্য সরকার সিএএর আওতায় যারা দেশভাগের বিভীষিকা নিয়ে এক দেশ ছেড়ে ভারতবর্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁরা সবাই নাগরিকত্ব পেয়ে গেছিল। কিন্তু একজন মুখ্যমন্ত্রী তার বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন ক্যা ক্যা ছি ছি। অন্যায় করেছিলেন আপনাদের সঙ্গে। দায়িত্ব নেওয়ার পর শিলিগুড়িতে অমিত শাহজি তিনবার বৈঠক করেছিলেন। কথা দিয়ে গিয়েছিলেন, গুজরাত, রাজস্থান-সহ সমস্ত রাজ্যের সরকারকে সিএএ’র পাওয়ার দিয়ে দিয়েছি। এই রাজ্যে আগের তৃণমূল সরকার তা কার্যকর করেনি। বিরোধিতা করেছে। কেন্দ্রের আধিকারিকদের দিয়ে যতটা পেড়েছি হেয়ারিং করেছি। কিন্তু এখন সময় এসেছে আমাদের পাওয়ার তোমাদের স্থানান্তরিত করব। আর তা দু’মাস আগেই পেয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত আড়াই লক্ষ পিটিশনার আছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শুনানি শেষ করে সকলকে সিএএ’তে সার্টিফিকেট প্রদান করব। তফসিলি জাতিভুক্তরা সবাই এসসি সার্টিফিকেট পাবেন। এক্ষেত্রে কেউ বাধা দেবে না।' তবে এই সরকার আপনার সরকার। সিএএ নিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে অযথা চিন্তার কোনও কারণ নেই বলেই বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর কি কথা হয়েছে তাও তুলে ধরেন। চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতাল আগামী ৬ মাসে ১০০ শয্যার করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। রাজ্যে সিএএ-র পক্ষে সওয়াল করে শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা, 'দেশ-রাজ্যকে যারা অস্থির করার চেষ্টা করছে। সেই দিমাগি নকশাল-মাওবাদী-আরশোলা-ছারপোকারা একসঙ্গে মিলেছে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমরা সবাই উদবাস্তু হয়েছি একবার। আমার মা উদবাস্তু হয়েছে বরিশালে। শুধু হিন্দু বলে বাংলাদেশ থেকে এক কাপড়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের মতো যারা আমাদের দেশ-রাজ্যকে অস্থির করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকব।' কেন্দ্র-রাজ্য ঐক্যবদ্ধ থেকে লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, 'আমরা আর উদবাস্তু হব না। মোদিজিকে ছাড়ব না। ছেড়ে দিলে সোনার গৌড় আর তো পাব না।'

👁 এই সংবাদটি পড়েছেন ০ জন পাঠক